in হযরত মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মাদ ফজলুল করীম (রহঃ)

বাইয়াত গ্রহণ ও খেলাফত লাভ

হযরত মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মাদ ফজলুল করীম (রহঃ) ছাত্র জীবনেই স্বীয় পিতা ও শাইখ হযরত মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মাদ এছহাক (রহঃ) এর নিকট তরীকতের বাইয়াত গ্রহণ করেন। জাহেরী ইলমের পাশাপাশি তিনি বাতেনী ইলমও অর্জন করেন। আত্মশুদ্ধি ও ইসলাহে নফস-এ মনোনিবেশ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন বাংলাদেশে চিশতিয়া ছাবেরিয়া তরীকার একজন প্রখ্যাত কামেল ওলী ও কুতুব। পিতার সহবতে থেকে কঠোর মুজাহাদা-রিয়াযতের মাধ্যমে ইলমে মা’রিফাতের উচ্চ শিখরে আরোহন এবং কামালাত অর্জন করার পর স্বীয় মুর্শিদ হতে খেলাফত ও ইযাজত লাভ করেন।

কুতুবুল আলম হযরত মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মাদ ফজলুল করীম (রহঃ) স্বীয় পীর ও মুর্শিদ ব্যতীত তৎকালীন যুগের চিশতিয়া ছাবেরিয়া তরীকার আরো অনেক বুযুর্গের সহবত ও রূহানী ফায়েয লাভে ধন্য হন। তাঁদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন হযরত হাকীমুল উম্মাত আশরাফ আলী থানভী (রহঃ) এবং শাইখুল ইসলাম হযরত হোসাইন আহমদ মাদানী (রহঃ) এর খলীফা। এ সব বুযুর্গের মধ্যে আরেফ বিল্লাহ হযরত মাওলানা মুহাম্মাদুল্লাহ হাফেজ্জী হুযূর (রহঃ), মুজাহিদে আজম হযরত মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী (রহঃ), শাইখুল হাদীছ আল্লামা হেদায়াতুল্লাহ সাহেব (রহঃ) প্রমুখ উল্লেখযোগ্য।

এ ছাড়া হযরত পীর সাহেব চরমোনাই (রহঃ) যখনই ভারত ও পাকিস্তান যেতেন, তখনই সেখানকার বুযুর্গানে দ্বীনের সাথে সাক্ষাত করতেন ও সহবত হাসিল করতেন। বর্ণিত আছে, তিনি একবার পাকিস্তান গিয়ে শুনতে পান যে, পেশওয়ারে এক বুযুর্গ রয়েছেন যিনি নামাযে অঝোর ধারায় কাঁদতেন। এ সংবাদ শ্রবণ করে তিনি উক্ত বুযুর্গের সহবত লাভের জন্য পেশওয়ার চলে যান। এছাড়া তিনি যখনই কোন বুযুর্গ লোকের আগমনের সংবাদ শুনতেন, তখনই তার সাথে সাক্ষাত করার জন্য চলে যেতেন।

এভাবে তিনি বুযুর্গদের সুহবাত অবলম্বন করে আধ্যাত্মিকতা ও মা’রিফাতের নূরে অন্তরাত্মাকে নূরান্বিত ও শক্তিশালী করেন। তিনি হযরত হাফেজ্জী হুযূর (রহঃ) থেকেও চিশতিয়া ছাবেরিয়া তরীকায় খেলাফত লাভ করেন।

Related Posts