in হযরত মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মাদ ফজলুল করীম (রহঃ)

ইন্তিকাল ও দাফন

কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদুল মিল্লাত, শাইখুল মাশায়েখ, আরেফ বিল্লাহ, ইমামুল মুজাহিদীন, রাহবারে উম্মাত, শাহসূফী আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মাদ ফজলুল করীম, পীর সাহেব চরমোনাই (রহঃ) এর ইন্তিকালও ছিল তাঁর জীবনের অনন্য এক কারামত। কারণ, চরমোনাই দরবারের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই অগ্রহায়ণের মাহফিল ১, ২, ৩ অগ্রহায়ণ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল। সুদীর্ঘ ৭০ বছর পূর্ব থেকেই এ নিয়মে মাহফিল চলে আসছিল। কিন্তু ২০০৫ সালের অগ্রহায়ণের মাহফিলে হযরত পীর সাহেব (রহঃ) ঘোষণা করেন যে, আগামী বছর অগ্রহায়ণের মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে ১২, ১৩, ১৪ অগ্রহায়ণ। আর পরবর্তী বছর ১২ অগ্রহায়ণ মাহফিল শুরুর পূর্বদিন অর্থাৎ ১১ অগ্রহায়ণ এ কামেল বুযুর্গ চরমোনাই মিলন মেলার আয়োজন করে স্বীয় মাহবূব ও মাশুকের সাথে গিয়ে মোলাকাত করেন। যেদিন মাহফিল শুরু হওয়ার কথা সেদিন অনুষ্ঠিত হয় তাঁর নামাযে জানাযা। সমগ্র দেশের দশ দিগন্ত থেকে লক্ষ লক্ষ মুজাহিদ যখন প্রাণপ্রিয় শাইখের পবিত্র যবানের বয়ান শোনার অধীর আগ্রহ নিয়ে চরমোনাই অভিমুখে রওয়ানা হয়, মাঝপথে তারা শুনতে পায় যে, তাদের প্রিয় শাইখ তাঁর মহান মাহবূবের সাথে গিয়ে মিলিত হয়েছেন। তারা তখন বুঝতে পারে যে, বিগত এক বছর পূর্বে তো আমাদের প্রাণপ্রিয় শাইখ আমাদেরকে তাঁর জানাযায় শরীক হওয়ার জন্য দাওয়াত দিয়েছেন।

আল্লাহ্ তায়ালার কি অপার অনুগ্রহ ও শান যে, তিনি তাঁর প্রিয় বান্দার অন্তিম শয়নে এক মিলন মেলার আয়োজন করার নিমিত্তেই তাঁর বান্দার যবান দিয়ে মাহফিলের নতুন দিন-ক্ষণের ঘোষণা দিয়েছেন। এটা আল্লাহ্ তায়ালার রহমাত ও অনুগ্রহ বৈ কিছু নয়। এটা আল্লাহ্ তায়ালার দরবারে তাঁর প্রিয় বান্দার মাক্ববূলিয়াত ও উচ্চ মর্যাদা প্রদানেরই আলামত।
যা-ই হোক, হযরত পীর সাহেব (রহঃ) দীর্ঘ দিন থেকেই ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত ছিলেন। ইন্তিকালের প্রায় এক/দেড় বছর পূর্ব থেকেই তাঁর কিডনী দুটো নিষ্ক্রিয় হতে শুরু করে। ইন্তিকালের এক বছর পূর্বে ২০০৫ সালের রমযানের তারবিয়াতে হযরত পীর সাহেব (রহঃ) বলেন যে, কিডনী দু’টো যেভাবে নিষ্ক্রিয় হতে যাচ্ছে, এতে আমার হায়াত আর বেশী নেই বলে মনে হয়। কিন্তু, আল্লাহ্ তায়ালা এ অবস্থায় দীর্ঘদিন জীবিতও রাখতে পারেন। এরপর হুযূরের স্বাস্থ্য দ্রুত অবনতির দিকে যেতে থাকলে এক পর্যায়ে তাঁকে চিকিৎসার জন্য ব্যাংকক নেয়া হয়। ব্যাংকক থেকে আনার পর তাঁর অবস্থার তেমন একটা উন্নতি হয়নি। এক সময় তাঁর কিডনীর প্রতিক্রিয়া তার শ্রবণশক্তির ওপরে পতিত হয়। ফলে তার শ্রবণশক্তি লোপ পেতে থাকে। এ অবস্থায় তাঁর শরীরের চেক আপ করার জন্য তাঁকে মাদ্রাজ নেয়া হয়। সেখান থেকে আসার পর বেশ কিছু দিন বারডেম হাসপাতালে রাখা হয়। এসময় তাঁর নিয়মিত ডায়ালিসিস করা হত। এরূপ অসুস্থ শরীর নিয়েও তিনি ডাক্তারের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বিভিন্ন সভা-সমাবেশ, মাহফিল, প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করতেন। ইন্তিকালের তিন মাস পূর্বে হযরত পীর সাহেব হুযূর চরম শারীরিক অবনতির অবস্থায় ঢাকা থেকে বাড়ী ফিরে আসেন এবং রমযানের তারবিয়াত প্রদান করেন। রমযানের এক মাস পর মাহফিলের প্রস্তুতি চলতে থাকে। মাহফিলের সব প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। আগামী কাল শুরু হবে কাংখিত মাহফিলের কার্যক্রম। ১১ অগ্রহায়ণ মোতাবেক ২৫ নভেম্বর রোজ শনিবার ফজরের নামায জামায়াতে আদায় করলেন পীর সাহেব হুযূর। এরপর যিক্র-আয্কার ও এশরাক নামায পড়লেন। এরপর মাহফিলের প্রস্তুতির ব্যাপারে খোঁজ-খবর নিলেন। আশ্বস্ত হলেন যে, মাহফিলের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এরপর একটু অসুস্থতা বোধ করলেন। সাথে সাথে ডাক্তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ডায়াবেটিস এবং প্রেসারসহ অন্যান্য রোগের মাত্রা দেখলেন। সবই স্বাভাবিক আছে। বেলা তখন প্রায় সকাল সাড়ে নয়টা।