in হযরত মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মাদ ফজলুল করীম (রহঃ)

হুযূরের কয়েকটি কারামত

কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে মিল্লাত, আরেফে রব্বানী হযরত শাহ সূফী আল্লামা সৈয়দ ফজলুল করীম, পীর সাহেব চরমোনাই (রহঃ) এর গোটা জীবনটাই ছিল কাশ্ফ, কারামত ও এলহামে পরিপূর্ণ। তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় কারামত ছিল- শরীয়াতের কঠোর পাবন্দী, সত্যের ওপরে দৃঢ়তা, বাতিলের মোকাবেলা ও সুন্নাতের পাবন্দী। তিনি বছরের তিনশত পয়ষট্টি দিনই দাওয়াত, তাবলীগ ও ওয়ায নসীহতের কাজে ডুবে থাকতেন। শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা-বাদল, ঝড়-তুফান কোন কিছুই তাঁকে দমিয়ে রাখতে পারত না। বছরের মধ্যে তিনশত দিনই দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এবং বিদেশে দাওয়াতের সফরে থাকতেন। বাড়ীতে যে ক’দিন থাকতেন সে সময়েও তা’লীম, দরস, তারবিয়াত, মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা ও এলাকায় ওয়ায নসীহতে ব্যস্ত থাকতেন, এক মুহ‚র্তের জন্য ঘরে অলস বসে থাকতেন না। প্রায় প্রতিদিনই একাধিক প্রোগ্রাম করতেন। একসঙ্গে দাওয়াত, তাবলীগ, তা’লীম-দরস, তাযকিয়াহ, জিহাদ ও রাজনীতির কাজ করাÑ এটি তাঁর কারামতের বহিঃপ্রকাশ। এ সকল কারামত ছাড়াও হযরত পীর সাহেব (রহঃ) এর থেকে বিভিন্ন সময় অনেক অলৌকিক কাজ প্রকাশ পেয়েছে, যা তাঁর কারামতেরই অন্তর্ভুক্ত। এখানে কয়েকটি ঘটনা উল্লেখ করব, (ইনশাআল্লাহ্)।

 একবার ১৯৯০ অথবা ১৯৯১ সালের ফালগুনের মাহফিলে রাতে হুযূরের বয়ান চলছিল। এ সময় ঘূর্ণিঝড় শুরু হয়। এমন ঝড় আমরা ইতোপূর্বে আর দেখি নি। বাতাসের তীব্রতায় প্যান্ডেলের শামিয়ানাগুলো ফেটে যেতে লাগল। খুঁটিসমূহ ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হল। বৃষ্টিতে মুজাহিদগণ এবং তাদের সামানপত্র ভিজে গেল। বৃষ্টিতে সম্পূর্ণ মাঠও ভিজে গেল। বৃষ্টি ও ঘূর্ণিঝড়ের ভয়াবহতায় আমরা মনে করলাম হয়ত আমরা আর বাঁচতে পারব না। এ সময় হযরত পীর সাহেব হুযূর (রহঃ) বয়ান বন্ধ করে দোয়া পড়তে লাগলেন এবং সকলকে দোয়া পড়তে বললেন। কিন্তু, ঘূর্ণিঝড় কিছুতেই কমছিল না। এ সময় হুযূর স্টেইজ থেকে নেমে রুমে চলে গেলেন এবং নামাযে দাঁড়িয়ে গেলেন। আল্লাহ্র ফযলে কিছুক্ষণের মধ্যেই ঝড় থেমে গেল। ঝড় থামার পর হুযূর স্টেইজে এসে সবাইকে দু’ রাকাত করে শোকরানা নামায পড়তে বললেন। এরপর মাহফিল যথারীতি চলতে লাগল। পরদিন সকালে শুনলাম চরমোনাইর নদীর পশ্চিম পাড়ের গ্রামের হাজার হাজার বাড়ি ঝড়ে উড়িয়ে নিয়ে গেছে। (বর্ণনাকারী ঃ সংকলক)
 ২০০০ সালে মুলাদী থানায় হযরত পীর সাহেব হুযূরের মাহফিল ছিল। বরিশালের মুজাহিদ কমিটির সভাপতি আবদুল মজিদ শিকদার একটি স্পীড বোট বরিশাল থেকে ভাড়া করে চরমোনাই নিয়ে আসেন পীর সাহেব হুযূরকে নেয়ার জন্য। কিন্তু বরিশাল থেকে আসার পথেই স্পীড বোটটি বিকল হয়ে যায়। এর একটি নাট লুজ হয়ে যাওয়ায় স্টার্ট দেয়ার কিছুক্ষণ পরই বন্ধ হয়ে যায়। তারা খুব কষ্ট করে চরমোনাই পর্যন্ত এলেন। চরমোনাই এসে বোট এর চালক নাটটিতে কিছু কাপড় পেঁচিয়ে লাগানোর চেষ্টা করলেন। কিন্তু এটি ঠিক মতো লাগতেছে না এবং স্টার্টও নিতেছে না। ইতোমধ্যে পীর সাহেব হুযূর মাহফিলের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে বোটের নিকট আসলেন। তিনি ড্রাইভারের কাছ থেকে সব ঘটনা শোনার পর বললেন, দেখি আমার কাছে দাও। এ বলে নাটটি তিনি ড্রাইভারের হাত থেকে নিয়ে এর মধ্যে জড়ানো সব কাপড় খুলে ফেলে দিলেন। এরপর নাটটি যে ছিদ্রের মধ্যে লাগানো হয়, সে ছিদ্রের মুখে পীর সাহেব হুযূর কিছুক্ষণ পর্যন্ত তাঁর শাহাদাত অঙ্গুলিটি ধরে রাখলেন। এরপর নাটটিকে তিনি শক্ত করে এঁটে দিলেন। অতঃপর বললেন, দেখি স্টার্ট দাওতো। নির্দেশ মোতাবেক ড্রাইভার স্টার্ট দেয়ার চেষ্টা করল। অমনি স্টার্ট হয়ে গেল। ড্রাইভার জিজ্ঞাসা করল, হুযূর মুলাদী পর্যন্ত যেতে পারবো তো? হুযূর বললেন, মুলাদী গিয়ে সেখান থেকে বরিশাল পর্যন্ত যেতে পারবা। হুযূর যা বললেন, বাস্তবে তা-ই হলো। মুলাদী যাওয়া পর্যন্ত এমনকি ড্রাইভারের বরিশাল যাওয়া পর্যন্ত বোটের কোন সমস্যা হয়নি।
বর্ণনাকারী ঃ ক্বারী আলতাফ হোসাইন, চরবাড়িয়া, বরিশাল।
 আফসার উদ্দীন নামে পীর সাহেব হুযূরের একজন মুরীদ ছিলেন। তিনি বরিশাল শহরে পুলিশে চাকুরী করতেন। হযরত পীর সাহেবকে তিনি খুব মহব্বত করতেন এবং তার আমলও খুব ভাল ছিল। তার গ্রামের এক বিদ্য়াতী-বেশরা ফকীর তাকে তার নিকটে মুরীদ হতে বলল। আফসার উদ্দীন ঐ ফকীরের নিকট মুরীদ হতে অ¯^ীকার করে। ফলে ঐ ফকীর তাকে বান মারে। আস্তে আস্তে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। অনেক ডাক্তার কবিরাজ দেখানোর পরও কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। অসুখ বৃদ্ধি পেয়ে তিনি মুমূর্ষু হয়ে পড়েন। একদিন তার অবস্থা এরূপ হল যে, তার আর বাঁচার কোন সম্ভাবনা নেই। তার শিয়রের পাশে বসে তার মা ও স্ত্রী কান্নাকাটি করছে এবং মুখে পানি দিচ্ছে আর দোয়া-দরূদ পড়ছে। তখন ঐ ভণ্ড ফকীরও আফসার উদ্দীনের ঘরের বাইরের রুমে বসা ছিল। এ সময় আফসার উদ্দীনের মা ও স্ত্রী দেখল যে, পীর সাহেব হুযূর (রহঃ) তাদের ঘরে ঢুকছেন। হযরত পীর সাহেবকে দেখে ভণ্ড ফকীর ভয় পেয়ে ঘর থেকে বের হতে উদ্যত হল। এ সময় পীর সাহেব হুযূর তার চুল ধরে বললেন, শয়তান তুই তাকে বান মারলি কেন ? তোরে এখনই পায়খানা খাওয়াব। তাড়াতাড়ি বান কাট। ভণ্ড ফকীর তখন হুযূরের হাতে পায়ে ধরে মাফ চাইতে লাগল এবং তার বান কেটে দিল। সে হুযূরের কাছে তওবা করে বলল, সে ভবিষ্যতে তার আর কোন ক্ষতি করবে না। এরপর ভণ্ড ফকীর চলে গেল। পীর সাহেব হুযূর অতঃপর আফসার উদ্দীনের শিয়রের পাশে গিয়ে তাকে ঝাড় ফুঁক করলেন। আল্লাহ্র ফযলে আস্তে আস্তে তিনি আরোগ্য লাভ করলেন। এ ঘটনা কারী আলতাফ সাহেব বর্ণনা করেছেন। মূলতঃ আল্লাহ্ তায়ালা হুযূরকে ঐ ঘরে অলৌকিকভাবে উপস্থিত করেছেন। কেননা, বাস্তবে হুযূর তখন অন্যত্র ছিলেন।
বর্ণনাকারী ঃ ক্বারী আলতাফ হোসাইন, চরবাড়িয়া, বরিশাল।
 আবদুল হালীম নামে হুযূরের এক মুরীদ ছিলেন। তিনি বলেছেন যে, একবার পীর সাহেব হুযূর ঢাকা থেকে চরমোনাইর উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। সদরঘাটে এসে দেখলেন যে, লঞ্চে কোন কেবিন বা কোন সীট খালি নেই। বসারও কোন জায়গা পেলেন না। অনেক খোঁজা-খুঁজির পর কোথাও জায়গা না পেয়ে টি, ভি,র নীচে কোন রকমে বসে পড়লেন। টি,ভি,র দিকে নযর পড়ে কিনা এ ভয়ে তিনি রুমাল মুড়ি দিয়ে নীচু হয়ে বসে রইলেন। এদিকে খাদেম আবদুল হালীম লঞ্চ কর্তৃপক্ষকে গিয়ে বললেন, আপনাদের লঞ্চে চরমোনাইর পীর সাহেব হুযূর উঠেছেন। আপনারা আজকের জন্য অন্ততঃ টি, ভি, টা বন্ধ রাখুন। কিন্তু তারা খাদেমের কথায় বিন্দুমাত্রও কর্ণপাত করল না। খাদেম আবদুল হালীম ফিরে এলেন। কিছুক্ষণ পর এক বিকট শব্দ হল এবং টিভিটা বন্ধ হয়ে গেল। লঞ্চের লোকজন ছুটে এসে দেখল টি, ভি,র পর্দা পুড়ে গেছে। এ ঘটনার পর লঞ্চ কর্তৃপক্ষ পীর সাহেব হুযূরের নিকটে এসে ক্ষমা চাইল। হুযূর বললেন, আমার কাছে ক্ষমা চাওয়ার কি আছে ? এর পেছনে আমার তো কোন হাত নেই। যা হয়েছে আল্লাহ্র পক্ষ থেকেই হয়েছে।
বর্ণনাকারী ঃ ক্বারী আলতাফ হোসাইন, চরবাড়িয়া, বরিশাল।
 হযরত পীর সাহেব হুযূরের এক মাহফিলে একজন মুদী দোকানদার এসেছেন ওয়ায শোনার জন্য। তিনি পীর সাহেব হুযূরের মুরীদ ছিলেন। মাহফিল শেষে তিনি দোকানে গিয়ে দেখেন যে, দোকানের পাশের ছোট দরজাটি খোলা। তিনি একটু বিচলিত হলেন এবং দরজায় মুখ দিয়ে দেখেন যে, ভিতরে এক ব্যক্তি কিছু মাল-সামান মাথায় নিয়ে বসে আছে। তাকে দেখে দোকানের লোকটি ভয়ে কেঁদে ফেলল। দোকানদার তাকে জিজ্ঞাসা করল, তুমি কে ? কি জন্য দোকানে ঢুকেছ ? সে বলল, আমি একজন চোর এবং দোকানে চুরি করার জন্য ঢুকেছি। দোকানদার জিজ্ঞাসা করল, মাল-সামান মাথায় নিয়ে বসে আছ কেন ? বের হওনা কেন ? চোর বলল, আমি যখন মাল নিয়ে বের হচ্ছিলাম, তখন দেখলাম চরমোনাইর পীর সাহেব লাঠি নিয়ে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। এ জন্য বের হতে পারিনি। আপনি আসার একটু আগেও তিনি এখানে ছিলেন। আপনি আসার পর আর তাঁকে দেখছি না।
বর্ণনাকারী ঃ ক্বারী আলতাফ হোসাইন, চরবাড়িয়া, বরিশাল।
 পটুয়াখালী জেলার অন্তর্গত ছোট বিঘাই ইউনিয়নের একজন আল্লাহ্ওয়ালা ছাত্র মুহাম্মাদ মূসা বলেন, আমি এক রাত্রে ¯^প্নে পীর সাহেব হুযূরকে দেখতে পাই। হুযূর আমাকে ¯^প্নের মধ্যে নগদ ২০/- টাকা দিয়ে বললেন, যাও তুমি ইল্ম শিক্ষা কর। অতঃপর আমি ঘুম হতে জাগ্রত হয়ে আমার হাতের মুঠোয় হুযূরের দেয়া ২০/- টাকা দেখতে পাই।
বর্ণনাকারী ঃ মুহাম্মাদ মশিউর রহমান, গলাচিপা, পটুয়াখালী।
 পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা থানার অধিবাসী জনাব হাফেজ মুহাম্মাদ আমীর হুসাইন সাহেব বলেন, শাইখের ইন্তিকালের পর থেকে আমি খুব অস্থির ছিলাম। ছাত্রদেরকে নিয়ে কুরআন মাজীদ তিলাওয়াত করছিলাম। হুযূরের ইন্তিকালের ২০ দিন পরে ১৫ ই ডিসেম্বর রোজ শুক্রবার দিবাগত রাত্রে ¯^প্নে দেখতে পেলাম যে, দু’জন আল্লাহ্ওয়ালা মুজাহিদ ভাই আমাকে বললেন, দেখুন, আপনি যার জন্য চিন্তা করছেন তিনি নবী কারীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে ঘোরাফেরা করছেন। আমি সামনে তাকিয়ে পীর সাহেব হুযূরকে রসূলে পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে ঘোরাফেরা করতে দেখতে পাই, (সুবহানাল্লাহ্)।
বর্ণনাকারী ঃ মুহাম্মাদ মশিউর রহমান, গলাচিপা, পটুয়াখালী।
 মুহাম্মাদ রতন আলী দরবেশ নামে এক মুজাহিদের ঘরে জ্বিনের উপদ্রব শুরু হয়। জ্বিনেরা ঘরের জিনিসপত্র নিয়ে যেত, লোকদেরকে ভয় দেখাত, টিনের ওপরে বিকট আওয়াজ করত, এমনকি কেউ আত্মীয়ের বাড়ি বেড়াতে গেলে সেখানে গিয়েও ভয় দেখাত। দরবেশ সাহেব বিভিন্ন স্থান থেকে তদবীর নেন। কিন্তু কোন ফায়দা না পেয়ে হতাশ হয়ে পীর সাহেব হুযূরের খেদমতে এসে বিস্তারিত ঘটনা বললেন। ঘটনা শুনে পীর সাহেব হুযূর দরবেশকে বললেন, আপনি বাড়িতে গিয়ে বলবেন, জ্বিনেরা শোন, চরমোনাইর পীর সাহেব তোমাদেরকে চলে যেতে বলেছেন। বাস্তবে দরবেশ সাহেব বাড়িতে গিয়ে এ কথা বলার পর থেকে আর কোন দিন জ্বিনের আলামত দেখা যায়নি।
বর্ণনাকারী ঃ মুহাম্মাদ রতন আলী, কাঠালিয়া, ঝালকাঠী।
(উল্লেখ্য, অনেক আধুনিক শিক্ষিত ব্যক্তি জ্বিনের অস্তিত্ব অ¯^ীকার করে থাকে এবং এ নিয়ে হাসি ঠাট্টা করে। এধরণের ব্যক্তিদেরকে আমাদের সাথে যোগাযোগের জন্য আহŸান করা হল।)
 বাংলাদেশের একজন খ্যাতনামা পীর সাহেব একদা ¯^প্নে রসূলে পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাক্ষাত লাভ করলেন। নবীজীর কাছে চরমোনাইর মরহুম পীর সাহেব হুযূর আল্লামা আলহাজ হযরত মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মাদ ফজলুল করীম সাহেবসহ বিশ্বের অনেক আউলিয়ায়ে কেরাম উপস্থিত ছিলেন। এক পর্যায়ে উক্ত খ্যাতনামা পীর সাহেব রসূলে কারীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকটে জানতে চাইলেন যে, উপস্থিত অলীগণের মধ্যে আল্লাহ্ তায়ালার দরবারে কার মর্যাদা বেশী। তখন রসূলে কারীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাঁড়িপাল্লা আনতে বললেন। তা আনা হলে তিনি এক পাল্লায় সকলকে উঠালেন এবং অপর পাল্লায় চরমোনাইর পীর সাহেব হুযূর (রহঃ) কে উঠালেন। হুযূর উঠার সাথে সাথে সে পাল্লা অপর পাল্লার তুলনায় অনেক ভারী হয়ে গেল, (সুবহানাল্লাহ)। এখানে দাঁড়িপাল্লা দ্বারা মর্যাদা নির্ণয় করা হয়েছে। কারণ, কার মর্যাদা বেশী ¯^প্ন দর্শনকারী তা জানতে চেয়েছিলেন। (¯^প্ন দ্রষ্টার নাম বিশেষ কারণে উল্লেখ করা হল না। আমাদের কাছে উপযুক্ত প্রমাণসহ তাঁর নাম ও পরিচয় সংরক্ষিত আছে।)
বর্ণনাকারী ঃ মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী মাদারীপুরী।
বর্তমান ঠিকানা ঃ ৫৫/বি, পুরানা পল্টন, ঢাকা।
 কাজী নূর মুহাম্মাদ নামক এক ব্যক্তি বলেন, আমার এক ছেলের বয়স যখন ২ বছর তখন তার শরীরের একপার্শ্ব পঙ্গু হয়ে যায়। অনেক ডাক্তার দেখিয়েছি, কোন কাজ হয়নি। একদিন ছেলেকে নিয়ে হুযূরের কাছে যাই। হুযূর ওর গায়ে হাত দিয়ে দোয়া করেন। আল্লাহ্ তায়ালার খাছ রহ্মাতে এ ঘটনার পর আমার ছেলে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যায়। সে ২০০৩ সালে চরমোনাই মাদ্রাসা থেকে কামিল পাস করে।
সংগ্রহে ঃ বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটি, সদর দপ্তর ঢাকা।
 আমি পীর সাহেব হুযূরকে নিয়ে ভোলা আসলাম। মাহফিল টাউন স্কুল মাঠে। মাগরিবের পূর্বেই আকাশ ঘন কাল মেঘে ছেয়ে গেল এবং বৃষ্টিও শুরু হয়ে গেল। লোকজন ছুটাছুটি করতে লাগলো। হুযূর বললেন, মাগরিবের পরেই আমাকে বয়ানে দিবে। হুযূর স্টেইজে উঠে সবাইকে বললেন- আপনারা ধৈর্য ধরে বসুন। তারপর হুযূর আকাশের দিকে কয়েকবার তাকালেন। সাথে সাথে আকাশ পরিষ্কার হয়ে গেল এবং বৃষ্টিও থেমে গেল। এ আশ্চর্য ঘটনা দেখে বহুলোক হুযূরের মুরীদ হয়েছেন।
বর্ণনাকারী ঃ মুহাম্মাদ আবুল কালাম, সাধারণ সম্পাদক, ভোলা জেলা শাখা মুজাহিদ কমিটি।
 ১৯৮৩ ইং সালের ঘটনা। আমার বাড়ীতে হুযূরকে দুপুরের খানার জন্য দাওয়াত করা হয়েছে। আমাদের একটা শরীকী দীঘি আছে। সবাই পরামর্শ করলাম দীঘি হতে হুযূরের জন্য মাছ ধরা হবে। দীঘিতে একটা বড় মাছ ছিল। কয়েক বছর যাবত বহু চেষ্টা করেও আমরা মাছটি ধরতে পারিনি। আল্লাহ্ তায়ালার কি মর্জি, দীঘিতে সে সময়ে পানি অনেক বেশী থাকা সত্তে¡ও মাছটি ধরা পড়ল।
বর্ণনাকারী ঃ মুহাম্মাদ আবুল কালাম, সাধারণ সম্পাদক, ভোলা জেলা শাখা মুজাহিদ কমিটি।
 ১৯৯৬ সালের ঘটনা। মনপুরা মাহফিল শেষে হুযূর চর কুকরী মুকরী রওয়ানা দিয়েছেন। আমিও হুযূরের সফরসঙ্গীদের মধ্যে ছিলাম। পথে মেঘনা নদী। ঐ দিন ১০ নং বিপদ সংকেত থাকায় মেঘনা নদী পাড়ি দেয়ার কোন ব্যবস্থা ছিল না। ২০/২৫ ফুট উঁচু ঢেউ নদীর পাড়ে আছড়ে পড়ছে। হুযূর বললেন, দেখি, নদীর ঘাটে যাই। স্থানীয় চেয়ারম্যান সাহেব হুযূরকে না যাওয়ার জন্য বহু অনুরোধ করলেন। কিন্তু, ঘাটে একটি ট্রলার দেখে হুযূর তাতে উঠে বসলেন। আমরাও সাথে উঠলাম। ৬ ঘন্টার পথ। কারও মুখে কোন কথা নেই। হুযূর নদীর দিকে কয়েকবার তাকালেন। আমাদের ট্রলার নদীর ওপর দিয়ে এমনভাবে চলতে লাগল মনে হল যেন নদী নিতান্তই শান্ত। পূর্ণ নিরাপদে ও আরামে আমরা নদী পার হলাম। এক ব্যক্তি বলল, হুযূর ! আজ আপনি প্রকাশ্যে কারামত দেখালেন। হুযূর বললেন, এটা আমার কারামত না, বরং আল্লাহ্ তায়ালার কুদরত ও দয়া।
বর্ণনাকারী ঃ আলহাজ্জ মুহাম্মাদ সাদেক মিয়া, সভাপতি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ভোলা জেলা শাখা।
 আমি ঢাকা থাকাকালীন সংসদ ভবন এলাকার এক ক্লাবে কেরাডি শিখতাম। একদিন এক আঘাতে আমার কানের পর্দা ফেটে যায়। এর পর থেকে আমি কানে কম শুনতে পেতাম। কিছুদিন পর ঢাকা পিজি হাসপাতালে আমার কান পরীক্ষা করানো হয়। এতে কানের পর্দা ফেটে যাওয়া প্রমাণিত হয়। ডাঃ অপারেশনের কথা বলেন এবং তারিখ নির্ধারণ করে দেন। টাকা সংগ্রহ করে নির্ধারিত তারিখের আগের দিন পীর সাহেব হুযূরকে ব্যাপারটা জানাই। হুযূর আমার জন্য দোয়া করে দিলেন। হুযূরের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে হাসপাতালের দিকে রওয়ানা দিলাম। সেখানে পৌঁছার পর ডাক্তারকে বললাম, আমি পূর্বের চেয়ে কানে একটু ভাল শুনতে পাচ্ছি। ডাক্তার কান পরীক্ষা করে বললেন, অপারেশন লাগবে না। যেটুকু সমস্যা আছে তা আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে। অপারেশন করলে বরং সমস্যা।
আল্লাহ্ তায়ালার খাছ মেহেরবানীতে পীর সাহেব হুযূরের দোয়ার বরকতে আমার কান এখন সম্পূর্ণ ভাল। কোন সমস্যাই নেই। হুযূরের জন্য দোয়া করি, যেন আল্লাহ্ তায়ালা হুযূরকে জান্নাতুল ফিরদাউস দান করেন। আমীন।
বর্ণনাকারী ঃ মুহাম্মাদ আলাউদ্দীন, বাকেরগঞ্জ, বরিশাল।
 দেওয়ানবাগীদের বিরুদ্ধে আহুত প্রথম সমাবেশে মদনপুর হাইস্কুল মাঠে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে আমি কতক দেওয়ানবাগী কর্তৃক আক্রান্ত হই। ওরা আমাকে ভীষণ মারপিট করে খালে ফেলে রাখে। এলাকার জনসাধারণ আমাকে উদ্ধার করে সেখানের এক মসজিদে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে মসজিদের ইমাম সাহেব ও অন্যান্য লোকজন আমাকে নিরাপদে মহাসমাবেশে পৌঁছে দেয়। আমাকে দেখে সেখানকার পুলিশ প্রশাসন ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে বলে। কিন্তু আমি বলি, আমি আমার শাইখকে এক নজর দেখতে চাই। তখন আমাকে স্টেইজের ওপরে বসানো হয়। আমীরুল মুজাহিদীন হযরত পীর সাহেব হুযূর (রহঃ) আমাকে দেখে দাঁড়াতে বলেন। অতঃপর পীর সাহেব হুযূর আমাকে ও অন্যান্য আঘাতপ্রাপ্ত মুজাহিদদের দেখিয়ে জাতির উদ্দেশ্যে মূল্যবান জিহাদী বক্তব্য রাখেন। বক্তব্য শেষে আমাকে হুযূর হাত দিয়ে দু’বার ইশারা করে বসতে বলেন। সাথে সাথে হুযূরের হাতের ইশারার অসীলায় ও আল্লাহ্ তায়ালার খাছ রহমাতে আমি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যাই। পরে দু’রাকাত শোকরানা নামায আদায় করি।
বর্ণনাকারী ঃ মুহাম্মাদ মকবূল হোসেন, পিতা- সুলতান আহ্মাদ, রূপসা, খুলনা।
 ১৯৮৮ সালে শীতকালীন সফরে পঞ্চগড় জেলা শহরে পীর সাহেব হুযূরের মাহফিল। যুহর বা’দ খানা ও বিশ্রাম জেলা সভাপতি ডাঃ শাহজাহান সাহেবের বাসায়। সে মোতাবেক হুযূরের গাড়ীসহ জেলা কমিটির একটি গাড়ী এসে থামলো ডাক্তার সাহেবের বাসার সম্মুখে। ডাক্তার সাহেব গাড়ীর অগ্রভাগে মোটর সাইকেল যোগে রাহবারের কাজ করেন। আমরা গাড়ী থেকে নামতেই ডাক্তার সাহেব পাগলের মত দিশেহারা হয়ে এ পকেটে ও পকেটে বাসার চাবি খুঁজতে লাগলেন। কিন্তু পেলেন না। আর বাসার ভিতরেও কেউ ছিল না। হুযূর ও তাঁর সফর সঙ্গীদের জন্য বাসা খালি করতে মহিলাদেরকে অন্যত্র সরানো হয়েছে এবং গেটে বাহির থেকে তালা দেয়া হয়েছে। অগত্যা ডাক্তার সাহেব মোটর সাইকেলে উঠলেন চাবি আনার জন্য। স্টার্ট দেবেন এমন সময় হুযূর ডেকে বললেন, কি হয়েছে ডাক্তার সাহেব, এত ব্যস্ত কেন? ডাক্তার সাহেব ঘটনা খুলে বললেন। তখন হুযূর নিজের পকেট থেকে একগুচ্ছ চাবি বের করে সেখান থেকে একটি চাবি ডাঃ সাহেবকে ধরিয়ে দিয়ে বললেন, তালা খোলেন। ডাক্তার সাহেব উক্ত চাবি তালায় দেয়ার সাথে সাথে তালা খুলে গেল। আমরা সবাই হতবাক ! কারণ, হুযূর তালা তো দেখেনই নি এমনকি জানতেও চাননি যে, তালাটা কোন ধরনের। অথচ তালা তো ঠিকই খুলে গেল, (সুবহানাল্লাহ্)।
বর্ণনাকারী ঃ মুহাম্মাদ হাবীবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক, পঞ্চগড় জেলা শাখা মুজাহিদ কমিটি।
 আমি গলার সমস্যার কারণে কোন কিছু খেতে পারতাম না। এমনকি পানিও না। ভান্ডারিয়া ও বরিশালের অনেক ডাক্তার দেখিয়েছি। কোন কাজ হয়নি। শেষ পর্যন্ত ঢাকার পিজি হাসপাতালেও দেখিয়েছি। তাতেও কোন কাজ হয়নি। একদিন রাতে ¯^প্নে দেখি সাদা পাগড়ী ও সাদা রুমাল পরিহিত অনেক হুযূর আমার বাড়ীতে এসেছেন। তাদের মধ্যে আমার শাইখ ও মুরশিদ পীর সাহেব চরমোনাইও আছেন। হুযূরের চোখে চোখ পড়লে তিনি আমাকে হাতের ইশারায় কাছে ডাকলেন। আমি তাঁর কাছে গেলে তিনি আমার মাথায় হাত দিয়ে আমাকে হা করতে বললেন। আমি হা করলে তিনি আমার মুখের ভিতরে ফুঁক দিলেন। এ ¯^প্নের পরে আমার গলার রোগ ভাল হয়ে যায়। আল্লাহ্ তায়ালা হুযূরকে জান্নাতবাসী করুন। আমীন !
বর্ণনাকারী ঃ মুহাম্মাদ সুলতান হাওলাদার, ধাওয়া, ভান্ডারিয়া, পিরোজপুর।
 ২০০২ সালের ঘটনা। শ্রীনগর থানাধীন পাচলদিয়া গ্রামের অধিবাসী মুহাম্মাদ আবুল কাসেম সরদার। একদিন সে ঢাকার কালীগঞ্জের কোন এক দোকানে বসে পীর সাহেব চরমোনাই কে অশালীন ভাষায় গালি গালাজ করে। তাৎক্ষণিকভাবে তার যবান বন্ধ হয়ে যায় ও তার হাত পা অবশ হয়ে যায়। বহু চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হলেও যবান খোলেনা। এর কিছুদিন পরই লৌহজং থানার হাট নোয়াপাড়া এলাকায় পীর সাহেব হুযূরের মাহফিল ছিল। মহল্লার ইমাম সাহেব ও আবুল কাসেমের ভাই তাকে নিয়ে পীর সাহেব হুযূরের মাহফিলে আসেন। ইমাম সাহেব পীর সাহেব হুযূরকে ঘটনা বিস্তারিত শুনান। হুযূর আবুল কাসেমকে বললেন, তুমি কথা বলতে পারো না? সে ইশারায় না বলে। তখন হুযূর শাহাদাত আঙ্গুল তার গালের নিকটে নিয়ে তার মুখে ফুঁ দেন এবং তাকে আল্লাহু আকবার বলতে বলেন। কিন্তু সে বলতে পারে না। এভাবে তিনবার বলার পর তৃতীয় বার তার যবান থেকে আল্লাহু আকবারের স্পষ্ট ধ্বনি বের হয়ে আসে।
ঘটনাদর্শী ঃ ১. কাওছার আহ্মাদ, যুগ্ম সম্পাদক, মুন্সীগঞ্জ জেলা শাখা মুজাহিদ কমিটি।
২. ক্বারী আবুল হোসেন সরকার, সাধারণ সম্পাদক, মুন্সীগঞ্জ জেলা শাখা মুজাহিদ কমিটি এবং আরো অনেকে।
 পীর সাহেব হুযূর (রহঃ) এর মাটিরাঙ্গা ওয়াজ মাহফিলে মানিকছড়ির চেয়ারম্যান মনছূর আহ্মাদ পীর সাহেব হুযূরের খেদমতে আরজ করলেন যে, হুযূর ! বাঘের আক্রমনের ভয়ে আমরা ঘুমাতে পারি না। সারারাত্র কাঠ পুড়িয়ে আগুন জ্বালিয়ে থাকতে হয়। তাই আল্লাহ্ তায়ালার দরবারে আমাদের জন্য একটু দোয়া করুন। হুযূর একথা শুনে বললেন, বাঘ এখান থেকে চলে যা। একথা বলে হাত দ্বারা ইশারা করলেন। আল্লাহ্ তায়ালার খাছ রহমাতে ঐ দিন হতে এ পর্যন্ত আমরা আর বাঘ দেখিনি। এখন আমরা আরামে ঘুমাতে পারি।
বর্ণনাকারী ঃ মাওলানা রশীদ আহ্মাদ, মানিকছড়ি, ঢাকাইয়া শিবির, খাগড়াছড়ি।
 পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর থানাধীন দক্ষিণ বানিয়ারী হাইস্কুল মাঠে ১৯৮৬ ইং সালে চরমোনাইর হযরত পীর সাহেব হুযূর (রহঃ) এর মাহফিল ছিল। এ এলাকায় এটাই তাঁর প্রথম মাহফিল। মাহফিল পরিচালনার সম্পূর্ণ দায়িত্ব ছিল আমার ওপরে। এমনকি সারারাত্র ডিউটিও ছিল আমার ওপরে। বয়ানের পর হুযূর বানিয়ারী মসজিদে রাত্রি যাপন করেন। রাত্র প্রায় ২ টার দিকে দেখি হুযূর মসজিদে নাই। হুযূর আশেপাশে কোথাও গেলেন কিনা একটু খুঁজতে লাগলাম। তখন দেখি মসজিদের পুকুরের মাঝে দাঁড়িয়ে হুযূর নামায পড়ছেন। নামায শেষে হুযূর আমাকে ডেকে বললেন, কাজী সাহেব! কিছু দেখলে আমার জীবদ্দশায় কাউকে বলবেন না। ঐ দিন হতে হুযূর আমাকে খুব মহব্বত করতেন এবং কাজী সাহেব বলে ডাকতেন। তিনি জীবিত থাকাবস্থায় এ ঘটনা আমি কাউকে বলিনি।
বর্ণনাকারী ঃ মুহাম্মাদ আবদুস সালাম, দক্ষিণ বানিয়ারী, নাজিরপুর, পিরোজপুর।
 ১৯৯৬ এর নির্বাচনে যখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে তখন রমনা পার্কে শিখা চিরন্তন নামে একটি প্রদীপ তৈরি করা হয়। এ প্রদীপের বিরুদ্ধে সমস্ত ইসলামী দল প্রতিবাদ করেছিল। ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে প্রেস ক্লাবের রাস্তায় প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। এ সভায় হযরত পীর সাহেব হুযূর খুব যোশের সাথে বলেছিলেনÑ
শিখা কোন দিন চিরন্তন হতে পারে না।
শিখা কোন দিন চিরন্তন হতে পারে না।
শিখা কোন দিন চিরন্তন হতে পারে না।
একমাত্র আল্লাহ্ তায়ালাই চিরন্তন।
এ বক্তব্যের পরে ঠিক ঐ রাতেই শিখা আপনা আপনি নিভে যায়। জাতীয় পত্রিকায় হেড লাইনে তা প্রকাশিত হয়েছিল এভাবে যে, “শিখা আপনা আপনি নিভে গেল।” আল্লাহ্ তায়ালা তাঁর অলীর যবান থেকে যে কথা বের করলেন তা বাস্তবে রূপায়িতও করে দেখালেন।
বর্ণনাকারী ঃ মুহাম্মাদ রমিজ উদ্দীন ভূঁইয়া, আলীনগর, কামরাঙ্গীরচর, ঢাকা।
 পটুয়াখালী জেলার কমলাপুর ইউনিয়নের একজন মুজাহিদ, নাম মুহাম্মাদ আবদুর রশীদ হাওলাদার। তার মেয়ের সাথে জ্বিন ছিল। বিবাহের বয়স হওয়া সত্তে¡ও অনেক বছর যাবত মেয়েটির বিবাহ হচ্ছিল না। বহু কবিরাজ, ফকীর দেখানো হয়েছে কিন্তু কোন কাজ হয়নি। অবশেষে সে পীর সাহেব হুযূরের নিকট ঘটনা বলল। ঘটনা শুনে হুযূর বললেন, তোমার মেয়ের কাছে যখন জ্বিন আসবে তখন আমার কথা বলবে যে, হুযূর তোমাকে চলে যেতে বলেছেন। আল্লাহ্র ফযলে বাড়ি এসে এ কথা বলার পর আর কোন দিন মেয়েটির নিকট জ্বিন আসেনি। এ ঘটনার এক মাসের মধ্যে মেয়েটির বিবাহ হয়ে যায়।
বর্ণনাকারী ঃ মুহাম্মাদ আবুল হোসেন হাওলাদার, সেক্রেটারী, আদাবাড়িয়া ইউনিয়ন শাখা মুজাহিদ কমিটি। সাংগঠনিক সম্পাদক, ইসলামী আন্দোলন, বাউফল থানা শাখা।
 ১৯৮৭ সালের ফেব্রæয়ারী মাসে পঞ্চগড় জেলার তেতুলিয়া থানায় পীর সাহেব হুযূর (রহঃ) এর মাহফিল ছিল। পরের দিন হুযূর পঞ্চগড় থেকে রংপুরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেন। ঐ দিন হরতাল ছিল। ঠাকুরগাঁও পৌঁছার আগেই দেখা গেল হরতালকারীরা গাড়ী বাধা দেবে। তখন ড্রাইভার হুযূরকে বললেন, হুযূর ! শুনেছি মাওলায় নাকি গাড়ী চালাতে পারেন ? হুযূর ড্রাইভারকে লক্ষ্য করে বললেন, দূর পাগল, ড্রাইভার পুনারায় বললেন, জি হুযূর, মাওলায় নাকি গাড়ী চালাতে পারেন, কিভাবে চালান, দেখতে মনে চায়। হুযূর বললেন, আসলেই দেখবেন ? তাহলে আপনারা সবাই চক্ষু বন্ধ করুন, আমি নির্দেশ দেয়ার আগ পর্যন্ত খুলবেন না। কিছু সময় পর হুযূর চোখ খোলার নির্দেশ দিলেন। আমরা চক্ষু খুলে দেখি গাড়ী রংপুর মেডিকেল কলেজের সামনে দাঁড়ানো আছে। সময় লেগেছে মাত্র ১০ মিনিট। অথচ সেখান থেকে রংপুরের দূরত্ব ৮০ মাইল। সে সময় ঠাকুরগাঁও হতে রংপুর পৌঁছতে আড়াই ঘণ্টা সময় লাগত। এরপর হুযূর আমাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, এ দৃশ্য আপনারা কখনো লোক সমাজে প্রচার করবেন না।
বর্ণনাকারী ঃ মুহাম্মাদ আবদুল মালেক, সাধারণ সম্পাদক, কাফরুল থানা শাখা মুজাহিদ কমিটি।
 ১৯৮৮ সালের ১৯ শে নভেম্বর শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া থানার ডিংগামানিক ইউনিয়নের পণ্ডিতসার হাইস্কুল মাঠে পীর সাহেব হুযূর চরমোনাই (রহঃ) এর মাহফিল ছিল। মাহফিলে আগত হুযূরের সফরসঙ্গী ও কয়েকজন মেহমানসহ মোট ২০ জনের জন্য আমরা ৫ কেজি চাউলের ভাত রান্না করেছিলাম। আমার খালাম্মার ঘরে খানার ব্যবস্থাপনা ছিল। পরে লোক সংখ্যা বেশি দেখে আমরা দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলাম। হুযূর আমাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, আপনারা কি বলাবলি করছেন ? আমরা বললাম, হুযূর ! ২০ জনের খানার ব্যবস্থা করেছিলাম, কিন্তু লোক ৫০ জনেরও বেশি হয়ে গেছে, কি করা যায় ? হুযূর বললেন, এতেই চলবে, ইনশাআল্লাহ্। আরও বললেন, পাতিলের ঢাকনা না সরিয়ে খানা বের করতে বলবেন। হুযূরের নির্দেশ মোতাবেক আমি খালাম্মাকে ভালভাবে বুঝিয়ে বললাম। ৫৫ জন খাওয়ার পর যখন শুধু খেদমতের ৫ জন বাকী ছিল। আমি খালাম্মাকে জিজ্ঞাসা করলাম খানা আছে কিনা। তিনি বললেন, তোমরা খাওয়ার পরও খানা বাঁচবে। ঐ ৫ কেজি চাউলের খানা ৬০ জন খাওয়ার পরও ২ জনের খানা অতিরিক্ত ছিল। তিনি বললেনÑ এরকম নজীর বিহীন ঘটনা আমি কখনও দেখিনি।
বর্ণনাকারী ঃ মোখলেছুর রহমান দেওয়ান, পোঃ পণ্ডিতসার, উপজেলা- নড়িয়া, জেলা- শরীয়তপুর।
 আমি ১৯৯৯ সনে ছারছীনা কামিল মাদরাসায় যখন ফাযিল জামায়াতে পড়ি তখন মাদারীপুর এলাকার এক ছাত্র মুহাম্মাদ লোকমান হোসাইন জাফরীর সাথে কথা বার্তা চলাকালীন পীর সাহেব হুযূরের শানে তিনি বললেন, “একবার মাদারীপুরে পীর সাহেব হুযূরের মাহফিল ছিল। সেখানে একজন লোক তার একটি বোবা ছেলে নিয়ে পীর সাহেব হুযূরের নিকটে দোয়ার জন্য আসেন। হুযূর ছেলেটিকে ফুঁক দিলে লোকটি চলে যায়। দীর্ঘদিন পরে আবার শিবচর থানায় পীর সাহেব হুযূরের মাহফিল হয়। লোকমান হোসেন জাফরীও সেখানে উপস্থিত হন। সেখানে গিয়ে তিনি দেখলেন, লোকটি তার ছেলেকে নিয়ে সেখানে উপস্থিত। লোকমান ভাই তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ভাই আপনার এ ছেলেটা বোবা ছিল কিনা? লোকটি জবাব দিল- হাঁ। এখন কি অবস্থা ? লোকটি প্রত্যুত্তর দিল- আল্লাহ্র ইচ্ছায় হুযূর ফুঁক দেয়ার পরে কথা বলতে পারে। এরপর লোকটি হুযূরের কাছে গিয়ে পুনরায় দোয়া কামনা করে বিদায় নিলেন।
বর্ণনাকারী ঃ মাওলানা ছগীর হোসাইন, মঠবাড়িয়া, পিরোজপুর।
 জ্বীনেরা তো হুযূরকে খুবই মানত। আমাদের মঠবাড়িয়াতে একজন পোষ্ট মাস্টার, নাম মুজিবুর রহমান। তিনি কোন এক সময় জামায়াতপন্থী ছিলেন। তার স্ত্রীর সাথে জ্বিন ছিল। সংসার বিনাশ হওয়ার উপক্রম। তাই তিনি দিশেহারা হয়ে পীর সাহেব হুযূরের মোড়েলগঞ্জ মাহফিলে আসেন এবং ঘটনা খুলে বললেন। হুযূর তাকে বললেন, আপনি বাড়ীতে গিয়ে বলবেন যে, চরমোনাইর পীর সাহেব হুযূর তোমাকে এবাদত করতে বলেছেন এবং সংসারের যাবতীয় কাজও করতে বলেছেন। এটা বলার সাথে সাথেই রোগী উঠে দাঁড়ালেন এবং বললেন আমি এখনই কাজ করতে যাচ্ছি। এর পর থেকে রোগী পুরোপুরি সুস্থ।
বর্ণনাকারী ঃ মাওলানা ছগীর হোসাইন, মঠবাড়িয়া, পিরোজপুর।
 আমার চোখের ওপরে একটি ছোট টিউমার হয়, তখন আমি ছারছীনাতে পড়ি। অনেক হোমিও ঔষধ খেলাম, কিন্তু কোন উপকার নেই। পরে ডাক্তার পরামর্শ দিলেন অপারেশন করার জন্য। এক পর্যায়ে চিন্তিত হলাম যে, চোখের ব্যাপার এবং ক্লাশেরও ক্ষতি হবে। পরবর্তীতে চরমোনাই মাহফিলে আসলাম এবং পীর সাহেব হুযূরের কাছে বললাম। তখন তিনি আমার চোখের ওপরে তিনবার থুথু দিলেন এবং নিজ হাতে মালিশ করলেন। আল্লাহ্র অসীম রহমাতে অল্প কয়েকদিনের মধ্যে চোখ ভাল হয়ে গেল, (সুবহানাল্লাহ্)।
বর্ণনাকারী ঃ মাওলানা ছগীর হোসাইন, মঠবাড়িয়া, পিরোজপুর।
 মাওলানা সায়েম সাহেব বলেন, কলাপাড়া থানার একজন মুজাহিদ তার ৮ বছরের ছেলেকে নিয়ে চরমোনাইর মাহফিলের উদ্দেশ্যে লঞ্চে রওয়ানা হয়েছেন। পথিমধ্যে ছেলেটি পিতার কাছ থেকে ছুটে গিয়ে লঞ্চে ঘোরাফেরা করছিল। অনেক সময় পরে ছেলেকে আর পাওয়া যাচ্ছিল না। যা-ই হোক এভাবে হতাশার মধ্য দিয়ে চরমোনাই লঞ্চঘাট এসে পৌঁছলেন। সিঁড়ির সামনেই দেখতে পেলেন তার সেই ছেলে দাঁড়ানো। তখন ছেলেকে কান্নার সাথে জড়িয়ে ধরে বললেন, বাবা, তুমি এখানে কিভাবে আসলে ? ছেলে বলল, আব্বা ! আমি লঞ্চের পিছন থেকে নদীতে পড়ে গিয়েছিলাম। তখন দেখলাম- একজন হুযূর আমাকে ধরে এখানে নিয়ে এসেছেন। পিতা জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি তাকে চেন? সে বলল, না। অবশেষে সকলে বললেন- এখন চল, আগে হুযূরের সাথে দেখা করে আসি। কুতুবখানায় প্রবেশ করার সাথে সাথেই ছেলেটি চিৎকার দিয়ে বললÑ বাবা, ঐ হুযূর আমাকে নদীর ভিতর থেকে তুলে নিয়ে এসেছেন। এরপর মুজাহিদরা কান্নাকাটি করে হুযূরের সাথে দেখা করলেন এবং ঘটনা খুলে বললেন।
বর্ণনাকারী ঃ মাওলানা ছগীর হোসাইন, মঠবাড়িয়া, পিরোজপুর।
 ১৯৯৭ সালের ঘটনা। আমি তখন ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন বরিশাল জেলা শাখার সভাপতির দায়িত্বে ছিলাম। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উপলক্ষে ইশা ছাত্র আন্দোলন বরিশাল জেলা শাখার পক্ষ থেকে এক বিজয় র‌্যালি বের করা হয়। এ র‌্যালি বরিশাল শহরের প্রধান প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে বিবির পুকুরের উত্তরে চৌরাস্তার মোড়ে জমায়েত হয়। অতঃপর সেখানে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। আলোচনা চলাকালীন ছাত্রলীগের ক্যাডাররা আমাদের ওপরে অতর্কিতে হামলা চালায়। এ হামলায় আমাদের আট দশজন কর্মী আহত হয়। তাদেরকে বরিশাল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহতদের মধ্যে কাশীপুর হাইস্কুল এন্ড কলেজের নাজমুল হাসান নামের একটি ছাত্রের নাকের হাড় ভেঙ্গে যায়। ডাক্তারগণ বললেন, অপারেশন করতে হবে। তারা ওকে শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। অপারেশনের দিন নির্ধারিত হয়। তখন চরমোনাইর হযরত পীর সাহেব হুযূর (রহঃ) সফরে ছিলেন। অপারেশনের আগের দিন হুযূর বাড়িতে আসেন এবং বিকালে মেডিকেলে ছেলেটিকে দেখতে আসেন। তখন তিনি নিজের মুখের লালা আঙ্গুলে নিয়ে ছেলেটির নাকে লাগিয়ে দেন। অপারেশনের পূর্বে ডাক্তারগণ তার নাক পরীক্ষা করে বলেন যে, ওর নাক এখন পুরোপুরি সুস্থ, অপারেশনের প্রয়োজন নেই, (সুবহানাল্লাহ)। আল্লাহ্ তায়ালা তাঁর অলীর মুখের লালার অসীলায় ওকে সুস্থতা দান করলেন।
বর্ণনাকারী ঃ মুহাম্মাদ মুনীরুল ইসলাম, উস্তাদ, চরমোনাই আলিয়া মাদরাসা।
 আমাদের চরমোনাই মাদরাসার একটি ছাত্র ইন্তিকাল করে। ছেলেটির বাড়ি আমতলী থানার মহিষকাটা থেকে পূর্বে হাজার টাকার বান নামক গ্রামে। মাদরাসার পক্ষ থেকে আমি ও মাওলানা মাহমূদুল হাসান সাহেব ছাত্রটির বাড়িতে যাই। ওখান থেকে ফেরার পথে ঐ গ্রামের এক লোক আমাদের গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে পথ আগলে ধরেন। গাড়ি থেকে নামলে তিনি আমাদেরকে বললেন, আপনারা চরমোনাই থেকে এসেছেন, আপনাদেরকে কিছু মেহমানদারী না করিয়ে ছাড়ছি না। তারপর তিনি পাশের দোকান থেকে কিছু নাস্তা করতে আমাদেরকে এক প্রকার বাধ্য করলেন। তখন তিনি বললেন, আমি জন্ম থেকে বোবা ছিলাম। একবার আমাদের এলাকায় পীর সাহেব হুযূর (রহঃ) মাহফিলে আসলে আমি তাঁর সাথে সাক্ষাত করি, তিনি তখন আমার মুখে ফুঁক দেন। আলহামদুলিল্লাহ, এরপর থেকে আমি ভালভাবে কথা বলতে পারি। বর্তমানে আমি স্থানীয় এক মসজিদে ইমামতি করি ও কিছু কবিরাজী ঔষধ বিক্রয় করি।
বর্ণনাকারী ঃ মুহাম্মাদ মুনীরুল ইসলাম, উস্তাদ, চরমোনাই আলিয়া মাদরাসা।
 আমরা ১৯৯১ সালে চরমোনাইর ফালগুনের মাহফিলের উদ্দেশ্যে রায়তলা ও গৌরীপুর থেকে দু’টি ট্রলারে ৪০/৪৫ জন মুজাহিদ রওনা হই। রাত প্রায় ১২ ঘটিকার সময় আমরা চাঁদপুর লঞ্চ ঘাটে পৌঁছিয়া কিছু সময় বিরতি নিলাম। রাত ১.৩০ টার সময় আমরা আবার রওয়ানা হলাম। চাঁদপুর ঘাট থেকে চার-পাঁচশত গজ দক্ষিণে যাওয়ার পর হঠাৎ আকাশ ঘন কালো মেঘে ছেয়ে যায় এবং প্রচন্ড বেগে তুফান ও বৃষ্টি শুরু হয়। তুফানের ঝাপটায় মালামালসহ লোকজন সবাই ভিজে যায়। ট্রলারের অবস্থা দেখে সকলে কান্নাকাটি শুরু করে। আমরা সবাই মৃত্যু পথ যাত্রী বাঁচার কোন আশা নেই। একমাত্র আল্লাহর উপর ভরসা করিয়া চলছি এমন সময় হঠাৎ আমি দেখি যে, চরমোনাইর হযরত পীর সাহেব হুযূর (রহঃ) আমাদের ট্রলারের সম্মুখে খুব জোরে হাঁটছেন আর বলছেন বাবারা! তোমরা ভয় পেয়ো না, সামনে আগাতে থাক, আল্লাহ তোমাদেরকে হেফাযত করবেন। এমতাবস্থায় আমার মনে হল, আমাদের ট্রলার দু’টি প্রাইভেট কারের মত দ্রুত গতিতে চলছে। কোন প্রকার ক্ষয়ক্ষতি ব্যতীত নিরাপদে আমরা চরমোনাইতে পৌঁছি। চরমোনাই গিয়ে আমরা হুযূরের কাছে কিছুই বললাম না। মাহফিলের শেষের দিনে উপদেশমূলক বয়ানে প্রথমেই হুযূর বললেন, বাবারা! তোমরা কখনও ছোট ছোট ট্রলার নিয়ে বড় নদীতে রওনা দেবে না। এতে বিপদের সম্মুখীন হতে হয়। এ ঘটনায় হুযূরের প্রতি আমাদের ভক্তি ও শ্রদ্ধা বহুগুণে বেড়ে যায়।
বর্ণনাকারী ঃ ক্বারী আবদুস সাত্তার, মুরাদনগর, কুমিল্লা।
 মাওলানা আনোয়ার হোসাইন নামক এক ব্যক্তি আমার নিকটে বলেন যে, বিচারপতি আবদুস সাত্তার সাহেব যখন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি তখন আমি একটি মিথ্যা বোমার মামলায় সাত বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হই। ফরিদপুর কারাগারে থাকাবস্থায় একদিন জানতে পারলাম যে, চরমোনাইর পীর সাহেব কারাবন্দীদের কতকের অনুরোধে সরকারের অনুমতিক্রমে তাদের জন্য দোয়া করার উদ্দেশ্যে কারাগারে আসবেন। সত্যিই হুযূর একদিন কারাগারে আসলেন। আমি ক্রন্দনরত অবস্থায় হুযূরের কাছে আমার দুরবস্থার কথা বললাম। তিনি আমাকে বললেন আগামী ফালগুনের মাহফিলের আগে মুক্তি পেলে চরমোনাই যাবেন? আমি বললামÑ জি হুযূর, যাব। আমি ভাবতে থাকলাম যে, আমি সাত বছর কারাদণ্ড প্রাপ্ত আসামী, কিভাবে ২/৩ মাসের মধ্যে মুক্তি পেতে পারি। হঠাৎ কয়েকদিন পরে সংবাদ পেলাম যে, রাষ্ট্রপতি কিছু কারাবন্দীকে মুক্তির আদেশ দিয়েছেন। তাদের মধ্যে আমার নাম এক নম্বরে, (সুবহানাল্লাহ)। আলহামদুলিল্লাহ, মুক্তি পাওয়ার পরে চরমোনাইর ফালগুনের মাহফিলে গিয়ে হুযূরকে জড়িয়ে ধরে ক্রন্দন করতে করতে সব ঘটনা খুলে বললাম।
বর্ণনাকারী ঃ মুহাম্মাদ শামসুদ্দীন মাতুব্বর, ভাংগা, ফরিদপুর।
 লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকায় হুযূরের মাহফিল ছিল। রেলওয়ের বড় একজন অফিসারের ছেলে জন্ম থেকেই কথা বলতে পারত না। ছেলেটি প্রতিবন্দীদের স্কুলে নবম শ্রেণীতে পড়া-লেখা করত। মাহফিল শুরুর আগে ছেলেটিকে হুযূরের কাছে আনা হল। তিনি ছেলেটির মুখে একটি ফুঁক দিয়ে দিলেন। একটু পরেই ছেলেটি স্পষ্ট আওয়াজে আল্লাহু আকবার উচ্চারণ করল ও তার পিতাকে আব্বা বলে ডাক দিল, (সুবহানাল্লাহ)। উল্লেখ্য, ঐ দিন মাহফিলের সব আলোচক আবেগে হুযূরের এ কারামত নিয়ে আলোচনা করেছেন।
বর্ণনাকারী ঃ মাওলানা সুজাউদ্দীন, খাদেম, পীর সাহেব চরমোনাই (রহঃ)।