in হযরত মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মাদ ফজলুল করীম (রহঃ)

খুলনা জিয়া হলে ই,শা, আন্দোলনের ঐতিহাসিক সম্মেলনে প্রশ্নোত্তর পর্ব (জনতার প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন হযরত পীর সাহেব, চরমোনাই)

প্রশ্নঃ আপনার দল যদি খাঁটি ইসলামী দল হয় তাহলে কিছু দিন হল ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনীতিতে নামলেন কেন ? আগে পাকিস্তান আমলে বা স্বাধীনতার পরে দীর্ঘকাল চুপ থাকলেন কেন ? তখন ইসলামী আন্দোলন ফরয ছিল না, না ইসলাম প্রচারে কোন সমস্যা ছিল ?

উত্তরঃ এটা একটা সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ। আমাদের পূর্ব পুরুষ সবাই সব সময় ইসলামী আন্দোলন করেছেন, হাজী এমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কী (রহঃ), রশীদ আহমাদ গংঙ্গুহী (রহঃ), শামসুল হক ফরিদপুরী (রহঃ) সহ সবাই আন্দোলন করেছেন। আমার ওয়ালেদ সাহেব কেবলা নেযামে ইসলামীর ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। হাফেজ্জী হুযূর (রহঃ) ইসলামী আন্দোলন করেছেন। আমি তো তখন ছেলে মানুষ ছিলাম। আমার আন্দোলনের কথা মানুষে জানে না, আমি তো তাদের সঙ্গে ছিলাম। এখন বয়স যেহেতু বৃদ্ধি পেয়েছে এজন্য আমি সামনে এসেছি। আমি যে ইসলামী আন্দোলন করিনি এ কথাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।
প্রশ্নঃ রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আল্লাহর রূহানী যাত বলা যাবে কিনা ?
উত্তরঃ আল্লাহ তায়ালার যাতী নূর থেকে যদি কেউ তৈরি হয়ে থাকে তাহলে সে আল্লাহ তায়ালার অংশ হবে। আমার ছেলে আমার শরীরের যেমন অংশ আর রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যদি আল্লাহর যাতের নূর হয়ে থাকেন তাহলে তিনি এবং আল্লাহ এক জাতীয় হয়ে যান। এটা সম্পূর্ণ র্শিক। গোলাম আযম সাহেব বলেছেন, আল্লাহর রূহানী সত্ত্বা তিনি, সর্ব বিষয়ের নেতা, এটা একটা র্শিকী কথা। এ কথার দলীল হিসাবে ইনকিলাব পত্রিকার কাটিং আমার কাছে আছে। এটা রাজনৈতিক প্রশ্ন হিসাবে নিতে চাই, ধর্মীয় প্রশ্ন হিসাবে না। এ জন্যই বলি যে, কোন আলেমের নেতৃত্ব ছাড়া ইসলামী আন্দোলন হতে পারে না। প্রফেসর এর নেতৃত্বে ইসলামী আন্দোলন হয় না।
প্রশ্নঃ সর্বত্র প্রচার করা হচ্ছে যে, গোলাম আযম নাকি আপনার কাছে লিখেছেন যে, তিনি আপনার সাথে মওদূদী সম্পর্কে আলোচনায় বসতে চেয়েছেন। আপনি নাকি রাজী হননি। বিষয়টির উত্তর প্রয়োজন।
উত্তরঃ আমি যে তাদের সাথে বসতে চেয়েছি তা পেপার পত্রিকায় দেখেছেন, না দেখেননি? কিন্তু তিনি যে আমার সাথে বসতে চেয়েছেন কোন পেপার পত্রিকায় দেখেছেন ? কাজেই তাদের যে মিথ্যা বলা চিরাচরিত অভ্যাস তার আরেকটা প্রমাণ পাওয়া গেল।
প্রশ্নঃ বাংলাদেশে যে কয়টি দল ইসলামী আন্দোলন করে, এর ভিতরে কোন দলটি ইসলাম প্রতিষ্ঠার যোগ্য এবং হক্ব?
উত্তরঃ এর বিচার তো আপনাদের হাতে, এর বিচার তো আমার হাতে নয়। যেহেতু আমি ইসলামী একটি দলের নেতৃত্ব দেই। এটা আমার বলা সম্ভব নয়। আপনারা বিচার করবেন কোন্টা হক্ব। কুরআন, হাদীছ এর ভিত্তিতে সাহাবা (রাঃ) এর নীতির উপরে কারা আছে- তা আপনারা বিচার করবেন।
প্রশ্ন ঃ ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন সর্বপ্রথম কার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং কেন তারা বিচ্ছিন্ন হয় ?
উত্তর ঃ ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন সর্বপ্রথম প্রতিষ্ঠা করেন দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেব। প্রথমে তার একার নেতৃত্বে একটা মিছিল বের হয়। তারপর দেখলেন যে, খুব জনপ্রিয়তা লাভ হচ্ছে। এরপর তিনি শাইখুল হাদীছ সাহেব, ব্যারিস্টার কোরবান আলী সাহেব, বায়তুশ শরফের পীর সাহেব এবং মরহুম মাওলানা আঃ রহীম সাহেব এর নেতৃত্বে একত্রে মিছিল বের করেন। তারপর তারা যখন দেখলেন যে, এটা খুব সুন্দর দেখা যায়, তখন আমাকে আনার জন্য গিয়েছিলেন বগুড়ায়। মোখতার সাহেব, ব্যারিস্টার কোরবান আলী ও মাওলানা এছহাক সাহেব (যে মন্ত্রী ছিলেন) আমার কাছে গিয়েছিলেন। আমি বলেছি, “কমার্শিয়াল লোকদের কথা বিশ্বাস করি না। আমরা আন্দোলনে নামবো আর তারা পিছন থেকে সরে যাবে। শেষে আমাদেরকে বিপদে ফেলবে।” তখন আমি আর ঢাকায় যাইনি।
এরপর এক ঘরোয়া বৈঠকে দেলওয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেবের টেবিলের উপরে কুরআন শরীফ ছিল, সেখানে ছয় জন লোক ছিল, তাদের সামনে সাঈদী সাহেব বললেন, আল্লাহর কসম খেয়ে বলছি, কুরআন শরীফ সামনে রেখে বলছি, আমি এর থেকে পিছপা হব না।
এ কসম খাওয়ার পর ব্যারিস্টার কোরবান আলী সাহেব আমার কাছে এসে বললেন যে, হুযূর! কসম করা হয়েছে। তখন আমি চিন্তা করলাম-কসম করার পর যদি তাকে বিশ্বাস না করি তাহলে আমারই ঈমানের ঘাটতি। তখন আমি বললাম, আমি যাব, কিন্তু নেতৃত্ব দেব না। আমি সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তৃতাও দেব না।
এ শর্তের উপরে আমি গেলাম ৩ মার্চ। গিয়ে দেখলাম সাঈদী সাহেবের পত্রিকায় বিবৃতি- শাসনতন্ত্রের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। তখন আমি বললাম কি ব্যারিস্টার সাহেব, ওরা পালিয়ে গিয়ে আমাদেরকে বিপদে ফেলবে এ কথা আমি বলিনি? তখন তিনি বললেন, হুযূর, এখন কি করব। তখন মরহুম মাওলানা আবদুল আহাদ আল-মাদানী সাহেব চিটাগাং এর ইমাম বললেন যে, আমার ছাগলটা কোথায়, দেখ তো। আমাকে চিঠি দিয়ে কোথায় গেল? এরকম বলছিলেন। শেষ পর্যন্ত তারা বললেন তোমাকে সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তৃতা দিতে হবে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, কি ব্যারিস্টার সাহেব, আমি যে শর্ত দিয়েছিলাম, সে শর্তের কি হল ? তখন বাধ্য হয়ে মুরব্বীদের কথা রাখতে হল এবং বক্তৃতা দিলাম। তারপর তো ১৩ তারিখে কি ঘটনা ঘটলো তা আপনারা জানেন। এ হলো শাসনতন্ত্র আন্দোলনের প্রতিষ্ঠা।
তাছাড়া, সাঈদী সাহেবের, আবদুল আহাদ আল-মাদানী সাহেবের, শাইখুল হাদীছ আল্লামা আযীযুল হক সাহেবের, আমার, আবদুর রহীম সাহেবের এবং বায়তুশ্ র্শফ পীর সাহেবের দস্তখতসহ কুপন ছাপানো হয়। সে কুপন আমাদের কাছে এখনও আছে। কারো যদি দেখতে মনে চায় তাহলে শাসনতন্ত্র আন্দোলনের অফিসে যাবেন, দেখিয়ে দেয়া হবে।
সম্মানিত পাঠক বন্ধুগণ! হযরত পীর সাহেব চরমোনাইর বক্তব্যের সত্যতা প্রমাণ করার জন্য ১৯৮৭ সালের কমলাপুর রেলওয়ে ময়দানে তাফসীরুল কুরআন মাহফিলে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেবের বক্তব্যের অংশ বিশেষ এখানে তুলে ধরছি। “আল্লাহ বলেন-
وَقَاتِلُوْهُمْ حَتّى لَاتَكُوْنَ فِتْنَةٌ وَّيَكُوْنَ الدِّيْنُ كُلُّه لِهِِّ
অর্থ ঃ আর তাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাক, যতক্ষণ না ফিতনা শেষ হয়ে যায় এবং আল্লাহর সমস্ত হুকুম প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। আনফাল ঃ আয়াত-৩৯।
আল্লাহ তায়ালা বলেন-
وَلَاتَهِنُوْا وَلَاتَحْزَنُوْا وَاَنْتُمُ الْاَعْلَوْنَ اِنْ كُنْتُمْ مُّؤْمِنِيْنَ-
অর্থ ঃ আর তোমরা হীনবল হয়ো না এবং দুঃখ করো না। যদি তোমরা মু’মিন হও, তবে তোমরাই বিজয়ী হবে। আলে ইমরানঃ আয়াত- ১৩৯।
আজ নারীর ইজ্জতকে ভুলুণ্ঠিত করা হচ্ছে, জেনা, ব্যাভিচার চলছে। সমস্ত শিক্ষাঙ্গণ অস্ত্রের কারখানায় পরিণত হয়েছে, পরিবহন শ্রমিকরা ধর্মঘট করছে। রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অশান্তি ক্রমেই বেড়ে চলছে। এ অশান্তি দূর করে শান্তি প্রতিষ্ঠিত করার জন্যই এসেছিল ইসলাম। আপনারা সে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত করার জন্য রাজি আছেন ? শুধু রাজি থাকলেই হবে না। গ্রামে গ্রামে মহল্লায় মহল্লায় সংগঠন তৈরি করুন। ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের বিরাট কাফেলায় শরীক হোন। এবারের সংগ্রাম হবে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের। কিসের আন্দোলন? ইসলামী শাসনতন্ত্রের আন্দোলন। আমরা বুঝতে পেরেছি ইসলামী শাসনতন্ত্রের অভাবেই, ইসলামী শাসন বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণেই এ অশান্তি হচ্ছে। ইসলামী শাসনতন্ত্র বাস্তবায়ন হলে পরেই শান্তি ফিরে আসবে, কি ঠিক কিনা? ভাইয়েরা আমার! সে জন্য ইসলামী শাসনতন্ত্রের পতাকা তলে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এতে যদি আপনাদের বিরুদ্ধে কোন একশন হয় আপনাদের বিরুদ্ধে কোন হামলা হয়, যদি জেল, জুলুম, গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করে, যদি গুলী খাওয়া লাগে তাহলে আপনারা প্রস্তুত আছেন কিনা বলেন ? আমি দেখতে চাই। আল-হামদু লিল্লাহ, আল-হামদু লিল্লাহ।”
প্রশ্ন ঃ বাতিল দলগুলো ইসলামী দলগুলোর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে এক হয়ে যায়। কিন্তু ইসলামী দলগুলো কেন ইসলাম কায়েম করতে এক হয় না? আসলে কি নেতা হওয়ার স্বার্থে এক হয় না?
উত্তর ঃ একমাত্র নেতা হওয়ার স্বার্থে। আর আমি মনে করি জামায়াতীরা মওদূদীবাদ প্রতিষ্ঠা করার জন্য। যেমন কাদিয়ানীরা কাদিয়ানীবাদ প্রচার করার জন্য আমাদের সাথে বসে না, এ রকম জামায়াতীরা মওদূদী বাদ প্রতিষ্ঠিত করার জন্য একত্রিত হচ্ছে না। এছাড়া সমস্ত ওলামা একত্রিত হয়ে গেছে। খুঁটিনাটি দু’ একটা এখতেলাফ ছাড়া, আমরা তো আছি। ঐক্য এখনও তো ভাংগেনি। শুধু জামায়াত ছাড়া সব তো এক হয়ে গেছে। এ খুঁটিনাটি এখতেলাফ তো স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেও থাকে তাতে তো আর ঘর ভাংগে না। কাজেই আমাদের মধ্যে অনৈক্য বলা যায় না। আমরা সব এক আছি, শুধু জামায়াত ছাড়া।
প্রশ্ন ঃ সাধারণভাবে দেখা যায় যে, সমস্ত ছোট জিনিস বড় জিনিস এর দিকে ধাবিত হয়। সমস্ত ছোট ছোট ইসলামী দলগুলি কি আমীরে জামায়াত গোলাম আযমকে আমীর বানিয়ে কাজ করতে পারে না ? তিনি কি আমীর হওয়ার যোগ্যতা রাখেন না?
উত্তর ঃ ইমাম একজন, মুসল্লী সংখ্যায় অনেক বেশী। এ অবস্থায় মূর্খকে ইমাম বানানো যাবে? লক্ষ মুসল্লীর মধ্যে যদি একজন আলেম থাকেন তাহলে ইমাম ঐ আলেমেরই হতে হবে। তাদের সংগঠন যত বড় হোক- ইসলামী সংগঠনের আমীর হতে হলে একজন হক্কানী পরহেযগার আলেম হতে হবে।
প্রশ্ন ঃ শাইখুল হাদীছ সাহেব আপনার ওস্তাদ। আপনি কেন ওস্তাদের বিরোধিতা করেন জানতে চাই ?
উত্তর ঃ আমি তো তাঁর বিরোধিতা করিনি। আমি তো বিরোধিতা করি দু’ একটা কথার। কেন, সাহেবাইন ইমাম মুহাম্মাদ (রহঃ) ও ইমাম আবূ ইউসুফ (রহঃ) আবূ হানীফা (রহঃ) এর সাথে মাসয়ালার এখতেলাফ করেন নাই? এটাই তো মুসলমানের নিয়ম, ওস্তাদ হোক আর বাপ হোক হক্ব কথা বলতেই হবে। কেউ যদি ওস্তাদ বা বাপ মায়ের সম্মানে হক্ব কথা না বলে তাহলে তার মুসলমানীর ভিতরে ত্রুটি আছে।
প্রশ্ন ঃ উম্মাতে মুহাম্মাদীর ৭৩ টি দল হবে। ১টি দল জান্নাতে যাবে, সে একটি দলের নাম কি? আপনার দলের সাথে থাকলে কি নাজাত পাবে? তাহলে যারা অন্য দলে আছে তারা কোথায় যাবে? জান্নাতে না জাহান্নামে?
উত্তর ঃ রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যখন জিজ্ঞাসা করা হল ঐ ১টি দল কোন দল হবে ? তখন রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উত্তর দিলেন- আমি এবং আমার সাহাবায়ে কেরাম যে পথ ও মতের ওপরে আছি, যে নীতির উপরে আছি, সে মত ও পথের ওপরে যারা থাকবে তারাই একমাত্র বেহেশতে যাবে। মওদূদী জামায়াত বলে সাহাবারা সমালোচনার উর্ধ্বে নয়। কাজেই বলতে হয়, ঐ দলটি প্রথমেই ৭২ দলের ভেতর পড়ছে না? কি বলেন? কুরআন হাদীছ অনুযায়ী, সাহাবাদের নীতি অনুযায়ী যে দলটি আছে- সে দলকে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত বলা হয়। এ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের তরীকা মোতাবেক যারা থাকবে, তারাই একমাত্র হক্ব দল। সেটা আপনারা বিচার করে দেখুন।
প্রশ্ন ঃ জনগণের রায়ে গণবিপ্লব ছাড়া ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব না। কিন্তু দেশের আলেম সমাজ এবং মুসলমানগণ যেভাবে শত ভাগে বিভক্ত, তাতে কি ইসলাম প্রতিষ্ঠা হবে? আল্লাহ তো সংঘবদ্ধ হতে বলেছেন। অথচ আমরা বিচ্ছিন্ন হয়ে দ্বীন প্রতিষ্ঠার কথা বলি। এটা কি কুফ্রী হচ্ছে না?
উত্তর ঃ যদি কেউ নফসানিয়াত নিয়ে নিজের নেতৃত্ব রাখার জন্য, নিজের স্বার্থে, দলের স্বার্থে বিচ্ছিন্ন থাকে তাহলে, কুফ্রী হবে- তাতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু যদি কেউ ইজতিহাদী ভুল করে থাকে তাহলে সেটা আল্লাহ তায়ালা ইচ্ছা করলে মাফ করে দিতে পারেন, যদি খুলূসিয়াতের সাথে হয়। আর যদি নফসানিয়াতের সাথে হয় সেটা অপরাধ হবে। সেটা আল্লাহ তায়ালার দরবারে কুফরী হিসাবেই থাকবে। কিন্তু, সব দল এক নয় বলে আমার আন্দোলন তো বন্ধ করতে পারি না। যেহেতু আমাকে আল্লাহ তায়ালার দরবারে জওয়াব দিতে হবে, এজন্য কর্তব্য নিজ দায়িত্ব পালন করা। সব ওলামায়ে কেরাম যদি এক না-ও হয় আপনি ঠিক মত আন্দোলন করে যাবেন। তবেই নাজাত পাওয়া যাবে।
প্রশ্ন ঃ জামায়াতের ভুল হয়েছে। সে ভুল লিখিতভাবে আমীরে জামায়াতকে জানানো হয়েছে কিনা? লিখিতভাবে তাদেরকে ভুল ধরিয়ে দেয়ার পর যদি তারা সংশোধিত না হয় তবে জনগণের সামনে লিখিতভাবে তাদের ভুল ব্যাপকভাবে প্রচার করলে জামায়াত ভুল ছাড়তে বাধ্য হবে। অথবা জামায়াতের মোখলেছ লোকেরা জামায়াত ছেড়ে সঠিক জামায়াতে আসতে বাধ্য হবে, সুযোগ পাবে। এ ব্যাপারে আপনি কি করেছেন এবং কি করবেন ? অনুগ্রহ করে জানালে এ বিষয়ে কথা বলতে সহজ হবে বলে মনে করি।
উত্তর ঃ জামায়াতে ইসলামীর ভিতর কি কি ভুল আছে এ সব ব্যাপারে ৫০০ (পাঁচশত) এর ওপরে বই লেখা হয়েছে। মাওলানা আবদুল কাদের সাহেব মেহেরপুর জেলার জামায়াতে ইসলামীর আমীর ছিলেন ৮ বছর, তিনি জামায়াত ত্যাগ করেছেন এবং এর ভিতরে কি কি ভুল আছে এ সম্পর্কে একটি বই লিখেছেন। এরপরেও যদি কেউ বলে, আমি দেখিনিÑ তাহলে মনে করতে হবে আসলে এরা রাতকানা। যারা দিনে চোখে দেখে, রাতে দেখে না তাদের বলা হয় রাতকানা। তারা ওদের ব্যাপারে চোখে দেখে না। শাইখুল হাদীছ সাহেব বোখারী শরীফের ব্যাখ্যায় ৭ম খ-ে লিখে দিয়েছেন ওদের ব্যাপারে। এরকম ওদের ব্যাপারে ৫০০ বই লেখা আছে। ছদর সাহেব হুযূর ওদের ব্যাপারে লিখেছেন এবং মাওলানা যাকারিয়া (রহঃ) ফেতনায়ে মওদূদী নামক বই লিখে গেছেন। সেখানে আপনারা দেখে নিবেন যে, জামায়াতের ভেতরে কি কি ভুল আছে।
প্রশ্ন ঃ ১৯ জুন দোলখোলা মসজিদে শাইখুল হাদীছ সাহেবের উপস্থিতিতে ওলামা সমাবেশে মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আপনি নাকি আওয়ামী লীগ থেকে ছয় কোটি টাকা পেয়েছেন, তার চেক নাম্বারও আছে এবং সে টাকা দিয়ে নাকি আপনি মার্কেট করেছেন। কতটুকু সত্য, জানতে চাই।
উত্তরঃ আমি তো টাকা পাইনি। আমি আপনাদের কাছে অনুরোধ করি আপনারা মেহেরবাণী করে সিদ্দিকুর রহমানের কাছ থেকে চেক নাম্বারটা আনলে ভাল হত। টাকাটা আমি যদি পেতাম আপনাদেরকেও কিছু খাওয়াতে পারতাম এবং তাকেও কিছু দিতে পারতাম। কাজেই মেহেরবাণী করে তার থেকে চেক নাম্বারটা আনলে ভাল হত। কারণ, ছয় কোটি টাকা তো কম না।
আমি বিএনপির সাথে মিশতে চাইনি এ জন্য আমার বিরুদ্ধে যত ফতোয়া। এ সমস্ত মৌলবীদের জন্যই ইসলাম কায়েম হয় না। লা’নত মিথ্যাবাদীদের ওপর। চেক নাম্বার জানা আছে, তাহলে ধরিয়ে দেয় না কেন? পত্র-পত্রিকায় চেক নাম্বার দিয়ে দেয় না কেন? আমি মার্কেট বানিয়েছি তো আজকে না, ১০ বছর আগে। বিএনপি সরকারেরও আগে। তখন আমি আওয়ামী লীগ থেকে টাকা খেয়েছি বিএনপি সরকারের আমলে বা জাতীয় পার্টির আমলে? তখন আমার নামে মামলা করল না কেন? কথা ঠিক নয়? এ সমস্ত আলেমদের কারণেই এদেশে ইসলাম কায়েম হয় না।
প্রশ্ন ঃ তাবলীগ জামায়াত সম্পর্কে আপনার অভিমত কি?
উত্তর ঃ তাবলীগ হক্ব জামায়াত এবং আমাদের একই ছিলছিলার। কিন্তু, তাবলীগের মধ্যে কতক লোক যে বাড়াবাড়ি করে! সেদিন আমার সাথে তাবলীগের মুরব্বী জোবায়ের আহমাদ সাহেব এবং যাত্রাবাড়ীর পীর সাহেব এর সাথে সাক্ষাত হয়েছিল। তাদের কাছে আমি বলেছিলাম যে, আপনাদের লোকজন এ সমস্ত আজেবাজে কথা বলে? তখন তারা উত্তরে বলেছিলেন- এরা মূর্খ লোক, এ জন্য বলে। এটা আমাদের কথা নয়।
কাজেই যারা বাড়াবাড়ি ধরণের কথা বলে, পীর-মুরীদী কিছু নয়, একমাত্র তাবলীগই ইসলামের সঠিক দল। আর কোন সঠিক দল নেই। এগুলি সব ভুল এবং মিথ্যা কথা এবং শরীয়াত বিরোধী কথা। যদি কেউ বলে চিল্লা ছাড়া বেহেশতের উপায় নেই। আমি বলতে চাই সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) কেউ কি চিল্লা দিয়েছেন? কি, কথা ঠিক না? তাবেয়ীন, তাবে’ তাবেয়ীন, আউলিয়ায়ে কেরাম, আইম্মায়ে মুজতাহেদীন- তারা কি চিল্লা দিয়েছেন? তাহলে তারা সব জাহান্নামী? যে কথায় জাহান্নাম সাব্যস্ত হয়, সে কথাও কুফ্রী। কি কথা ঠিক না?
তাবলীগ হক্ব, কিন্তু তাবলীগের কেউ যদি বলে রাজনীতি জায়েয নেই। তবে কি তা সঠিক হবে ?
আমি জোবায়ের সাহেবকে বলছিলাম যে, আপনাদের কতক লোক বলে রাজনীতি হারাম। আমি বলি- রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাজনীতি করেননি? সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) কি করেননি? তাহলে তারা হারাম কাজ করে গেলেন? তখন জোবায়ের সাহেব উত্তরে বললেন যে, না হুযূর ! এটা আমরা বলি না, মূর্খ লোকেরা বলে।
আমি শেষ পর্যন্ত তাবলীগ জামায়াতের মুরব্বীদেরকে দাওয়াত দিয়ে দিয়েছি যে, দেখেন, একত্রে কাজ করলে ইসলামের কাজ আরও বেশী হবে। আমি দাওয়াত দিলাম যে, আপনারা সব মুরব্বী চরমোনাইর মাহফিলে যাবেন। আপনাদেরকে সময় দেব। আপনারা বয়ান করবেন। আমাকেও দাওয়াত দিবেন। আমি আপনাদের ইজতেমায় যাব এবং আমাকেও বয়ান করতে সময় দিবেন। তাহলে জনগণ দেখবে যে, তারা সবাই এক। আমরা যতক্ষণ পর্যন্ত এরকম এক মঞ্চে বসতে না পারব, ততদিন আমাদেরকে এক মনে করবে না। এখন দেখা যাক আমার প্রস্তাব কতদূর কার্যকর করে। আমি ইনশাআল্লাহ চরমোনাইর মাহফিলের আগে তাদেরকে চিঠির মাধ্যমে দাওয়াত দেব।
(এ প্রসংগে উল্লেখ্য যে, হযরত পীর সাহেব হুযূর তাবলীগী জামায়াতের মুরব্বীদেরকে উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল পাঠিয়ে পত্রের মাধ্যমে চরমোনাই মাহফিলের দাওয়াত দিয়েছিলেন। প্রতিনিধিদলে ছিলেন হযরত মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, হযরত মাওলানা আবু জাফর আহমাদুল্লাহ সাহেব ও বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটির সেক্রেটারী জেনারেল জনাব রফিক উদ্দীন আহমাদ। তাবলীগের মুরব্বীগণ পত্র পাওয়ার পরেও মাহফিলে যাননি। পাশাপাশি দুঃখজনক হলেও সত্য যে, হুযূরকে তাঁদের ইজতিমায় দাওয়াতই দেয়া হয়নি, বয়ানের সুযোগ দেয়ার তো প্রশ্নই আসে না।)